কবিতা
কবিতা
‘বাল্যের কবিতা বাদ দিলে চাকরির সময়ে বিজ্ঞাপন লেখাই আমার সাহিত্যের হাতেখড়ি।’ এটা রাজশেখর বসুর বহুবার বলা উক্তি। সেই ‘বাল্যের কবিতা’ও যে একদিন খুঁজে পাব তা কল্পনাতীত। প্রায় ৯০।৯৫ বছর আগেকার একটা খাতায় রাজশেখরের বোনেদের কপি করা বিস্তর কবিতা। তার কয়েকটির নীচে লেখা ‘শ্রীরাজশেখর’। এ থেকে চারটি কবিতা ‘জল’, ‘নাবিক’, ‘সরস্বতী’ ও ‘শেলী থেকে’ প্রথম প্রকাশিত হল এই সংকলনে। তবে কিছু সংশয় রইলই। কেউ যদি দেখিয়ে দেন এসব ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্য কারুর লেখা কবিতা কপি করা ছিল তবে আমার এই বেনিফিট অফ ডাউট ভুল হবে।
অন্যান্য কবিতা আগেই প্রকাশিত হয়েছে, তিন খণ্ডে ‘পরশুরাম গ্রন্থাবলী’তেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সে ছাড়াও আরও বেশ কিছু কবিতা পেয়েছি ; সবই এই সংকলনে দেওয়া হল। শুনেছি রবীন্দ্রনাথও রাজশেখরের কিছু কবিতার বিশেষ প্রশংসা করেছিলেন। কোন্ কবিতা তা অবশ্য কিছুই জানি না। কিছু কবিতা সত্যিই অসাধারণ—দেবনির্মাণ, গঙ্গা, কৈলাস শিখরে, কালিপদ ডলিকোসেফালিক ইত্যাদি, এমনকি ‘বাল্যের’ ‘সরস্বতী’।
‘সতী’ অবশ্যই সব আলোচনার ঊর্ধ্বে। ‘জামাইবাবু, ও বউমা’ আগেও প্রকাশিত হয়েছে, এটি একটি ‘পাঠান্তর’। এ কবিতার এই প্রথম প্রকাশ হল রাজশেখরের নিজের হাতে লেখা একটি খাতা থেকে। তখন তাঁর বয়স ১৯—সবে ৭।৮ বছর হল বাঙলা শিখেছেন। এটি এবং আরও কয়েকটি প্রথম যুগের কবিতার কিছু ‘ভুল বানান’ অক্ষুণ্ণ রাখা হল। পরবর্তীকালের বাংলা বানানের ‘কর্ণধার’ রাজশেখরের পরিপ্রেক্ষিত পাওয়ার জন্যে।