কবিতা: অটোগ্রাফ

অটোগ্রাফ ১

শূধূ, শুভেচ্ছায় যদি হ’ত কোনো কাজ
তোমাদের তরে আমি চাহিতাম আজ—
বিদ্যা বূদ্ধি টাকাকড়ি সূকৃতি সূনাম।
অথবা প্রাচীন মতে শূধূ চাহিতাম—
ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষ—এই চতুষ্টয়
পূরূষার্থ যার নাম। দুঃখের বিষয়
এরকম আশীর্বাদ বড় অনিশ্চিত।
অতএব চাহিতেছি সামান্য কিঞ্চিৎ—
হও কুতূহলী, হও উৎসাহী সতত,
তাতেই অনেক লাভ হবে আপাতত।
বাড়িয়া চলূক এই তোমাদের খাতা,
লেখাতে ছবিতে এর ভরে যাক পাতা॥

৮।১০।৪০

অটোগ্রাফ ২

বেশ ঝকঝকে তোমার এ খাতা,
মিছে অটোগ্রাফে ভরিও না পাতা।
বরঞ্চ তুমি এক কাজ কর—
তুলে রাখ এটা বছর পনর।
তার পরে রোজ সকাল সন্ধ্যে
গদ্য অথবা পদ্য ছন্দে
লাল কালি দিয়ে এই নোটবূকে
কেবল কাজের কথা রেখো টূকে—
ধোবার বাড়িতে কি যাবে ময়লা,
দূধ কত এল, কত বা কয়লা,
তেল নূন চিনি মাছ তরকারি ;
এসব হিসেব ভারী দরকারী॥

২৩।১০।৪০

অটোগ্রাফ ৩

এই যে তোমার আছে অটোগ্রাফ বই,
হরেক রকম যাতে লেখা আর সই,
লাগবে না কোনো কাজে, একেবারে ফাঁকি
ছিঁড়ে ফেল পাতাগুলো। থাক শুধু বাকি
সাদা পাতা আছে যত। সেই নোট বুকে
এর পরে বড় হয়ে রেখো তুমি টুকে
ধোবার হিসাব, দুধ, মাছ, তরকারি।
এ সব হিসাব রাখা বড় দরকারি।

অটোগ্রাফ ৪

দাতব্য বলিয়া যাহা বিনা প্রত্যাশায়
দেশ কাল পাত্র বুঝে দান করা যায়,
সাত্ত্বিক নামেতে খ্যাত গীতায় সে দান,
যার কথা বলেছেন কৃষ্ণ ভগবান।
তার চেয়ে আছে দান উচ্চতর অতি,
এদেশে চলন তার হয়েছে সম্প্রতি।
এদানে পকেটে হাত পড়ে না দাতার,
বরং খরচ কিছু হয় গ্রহীতার।
কিনতে পয়সা লাগে একখানি খাতা,
তাহার পাতায় দাতা লিখে দেন যা তা
সারগর্ভ বাজে বাণী। নাহি লাগে কাজে.
অটোগ্রাফরূপে শুধু খাতায় বিরাজে॥

অটোগ্রাফ ৫

গাদা গাদা ফোটোগ্রাফ
গুচ্ছের অটোগ্রাফ
কেষ্ট বিষ্টুর সার্টিফিকেট
দেশ বিদেশের ডাক টিকিট
ছিন্ন পাদুকা বস্ত্র ছত্র
পুরাতন টাইমটেবল
তামাদি প্রেমপত্র
শুকনো ফুল মরা প্রজাপতি
এ সব সংগ্রহ কদভ্যাস অতি।